আমাদেরবাংলাদেশ ডেস্ক।।
রাজধানীর গুলশান হলি আর্টিজান রেঁস্তোরায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলা মামলার রায় হতে যাচ্ছে আগামীকাল। আট আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করবেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক।
গত ১৭ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন তিনি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, জবানবন্দি ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তারা সব আসামির অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলেও প্রত্যাশা তাদের।
রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেঁস্তোরায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তিন বছর পেরিয়ে গেছে। এখনও সেই দুর্বিষহ স্মৃতি তাড়িয়ে বেরায় অনেককেই।
২০১৬ সালের পহেলা জুলাই। গুলশান দুই নম্বরের লেকের পাশের নিরিবিলি এই রেঁস্তোরাটি হামলার জন্য বেছে নেয় জঙ্গিরা। সন্ধ্যার কিছু পর রেঁস্তোরায় ঢুকে জিম্মি করা হয় বিদেশী নাগরিকসহ অনেককে। রাতেই হত্যা করা হয় বিদেশি নাগরিক ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২২ জনকে। জিম্মিদশার অবসান ঘটাতে পরদিন সকালে রেঁস্তোরায় কমান্ডো অভিযান চালায় সেনা সদস্যরা। সেই অভিযানে নিহত হয় হামলায় অংশ নেয়া ৫ জঙ্গি।
হামলার দুই বছর পর ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই আট আসামির বিরুদ্ধে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। একই বছর ৮ আগস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত। পরে ২৬ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার বিচার কাজ।
সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য ২৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান।
এ মামলার মোট ৮ আসামির সবাই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। বিচার চলাকালে মামলার মোট ২১১ সাক্ষীর মধ্যে ১১১ জন্য আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার বিষয়টি তারা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। ৩০২ ধারায় সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
এদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, আসামীদের জবানবন্দি, অভিযোগপত্রের তথ্য ও সাক্ষীদের দেয়া তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। আসামিরা কেউই ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ন্যায় বিচার হলে তারা খালাস পাবেন।
আগামীকাল মামলাটির রায় ঘোষণা হলে, শেষ হবে চাঞ্চল্যকর ঐ জঙ্গি হামলা মামলার বিচার কাজের প্রথম ধাপ।